৫৪ বছর পর সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-১ আসনে দুই নারী প্রার্থী

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-১ আসনে (সদর ও পাঁচবিবি) ইতিহাস গড়েছেন দুই নারী প্রার্থী। তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার এবং বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী তৌফিকা দেওয়ান। ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শন ও সামাজিক অবস্থান থেকে দুজনই ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা তুলে ধরছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার ২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পাঁচবিবি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এটি তার জাতীয় রাজনীতিতে প্রথম বড় পরীক্ষা। পাঁচবিবিতে তিনি পরিচিত মুখ। হলফনামা অনুযায়ী, তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাস এবং বয়স ২৯ বছর। তার বিরুদ্ধে জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি থানায় একটি করে ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, সাবেকুন নাহারের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি খাত। কৃষি থেকে তার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৪৯৬ টাকা। তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪২৫ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৯ লাখ ৬৯ হাজার ২৫৬ টাকা। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ ২১ লাখ ২৫ হাজার ১৪৯ টাকা। এছাড়া তার মালিকানায় রয়েছে ১৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি প্রাইভেট কার, ৬০ লাখ টাকার ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার, ৩ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আড়াই লাখ টাকার আসবাবপত্র। তার কৃষিজমির পরিমাণ ৮১ শতাংশ, যার বাজারমূল্য ৭১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী তৌফিকা দেওয়ান ইডেন মহিলা কলেজ থেকে রসায়নে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। বয়স ৩১ বছর। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তার আয়ের একমাত্র উৎস শিক্ষার্থীদের পড়ানো, যেখান থেকে বার্ষিক আয় ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ৩০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ১০ হাজার টাকা। হলফনামা অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৬ লাখ ২৫ টাকা। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।

প্রচারণা প্রসঙ্গে সাবেকুন নাহার বলেন, নারী প্রার্থী হওয়ায় মাঠপর্যায়ে কাজ করতে তিনি কোনো বড় প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন না। নারী ও পুরুষ—দুই ধরনের ভোটারদের কাছ থেকেই তিনি ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন। তবে রাতের আঁধারে তার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে তৌফিকা দেওয়ান বলেন, তিনি সম্পদশালী প্রার্থীদের সঙ্গে এক অসম প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। তার মতে, বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থায় অর্থের প্রভাব প্রকট। তিনি দাবি করেন, টাকার খেলায় কর্মী সংগ্রহ ও প্রচারণা পরিচালিত হচ্ছে। কৃষক ও নারী কৃষি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আন্দোলন গড়ে তোলাই তার মূল অঙ্গীকার। জয়-পরাজয়ের চেয়ে আদর্শের লড়াই হিসেবেই তিনি এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে জানান। প্রচারণায় তিনি তার বাবার পুরোনো মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন বলেও উল্লেখ করেন।

এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মাসুদ রানা প্রধান, জামায়াতে ইসলামীর ফজলুর রহমান সাঈদ এবং বাসদের ওয়াজেদ পারভেজ। সব মিলিয়ে জয়পুরহাট-১ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

No comments:

Powered by Blogger.